কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। অনেক ওয়েবসাইট এআই আর্টিকেল হুবহুব কপি করে ভরিয়ে ফেলার কারণে পরে দেখা গেছে, প্রথম দিকে কিছু ট্রাফিক পেলেও হঠাৎ করে গুগলের আপডেটে তাদের সাইটের র্যাঙ্কিং একদম নিচে নামিয়ে দিয়েছে ।
তাহলে আসল সত্যিটা কী? গুগল কি এআই লেখা একদমই পছন্দ করে না? নাকি মানুষের লেখা আসল কনটেন্টেই জাদু লুকিয়ে ? আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে কথালি তার কথার জাদুতে সব কিছু খুব সহজ আর পরিস্কার করে বুজিয়ে দেবে।
অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে যে, গুগল বুঝি এআই দিয়ে লেখা দেখলেই সাইট ব্লক করে দেয়। বিষয়টি কিন্তু মোটেও তেমন নয়। গুগলের অফিসিয়াল পলিসি হলো— "User-First Content"। অর্থাৎ, কনটেন্টটি মানুষ লিখেছে নাকি কোনো রোবট লিখেছে, তার চেয়ে গুগলের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো— পোস্টটি পড়ে পাঠকের কোনো উপকার হচ্ছে কি না।
গুগল একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কনটেন্ট যাচাই করে, যাকে বলা হয় E-E-A-T:
Experience (অভিজ্ঞতা): লেখার মধ্যে লেখকের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রকাশ পাচ্ছে কি না।
Expertise (দক্ষতা): বিষয়টির ওপর লেখকের সঠিক জ্ঞান আছে কি না।
Authoritativeness (প্রামাণ্যতা): তথ্যগুলো কতটুকু নির্ভরযোগ্য।
Trustworthiness (বিশ্বাসযোগ্যতা): পাঠক লেখাটি পড়ে বিশ্বাস করতে পারছে কি না।
আর এখানেই এআই-এর তৈরি কনটেন্ট আটকে যায়! কারণ এআই ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটা সুন্দর গুছানো রূপ দিতে পারে, কিন্তু সে কখনো নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে না।
আপনার ব্লগের জন্য কোনটি সেরা তা বোঝার জন্য নিচের তফাতগুলো জানা দরকার:
একজন মানুষ যখন লেখেন, তখন তার লেখার মধ্যে একটা নিজস্ব গল্প বা অনুভূতি থাকে। তিনি পাঠকের সাথে বন্ধুর মতো কথা বলতে পারেন। অন্যদিকে, এআই-এর লেখা খুব প্রাতিষ্ঠানিক ও রোবোটিক মনে হয়। এতে একই শব্দের ব্যবহার বারবার ঘুরেফিরে আসে।
ধরুন, আপনি "সেরা স্মার্টফোন" নিয়ে লিখছেন। এআই শুধুই স্পেসিফিকেশন বলে দেবে। কিন্তু একজন মানুষ মোবাইলটি হাতে ব্যবহার করার পর তার ব্যাটারি বা ক্যামেরা নিয়ে যে বাস্তব মতামত বা অভিজ্ঞতা দিতে পারবেন, তা এআই কখনো পারবে না।
এআই অনেক সময় একদম বানিয়ে বানিয়ে ভুল তথ্য বা ভুল পরিসংখ্যান দিয়ে ফেলে। এগুলো না দেখে ব্লগে প্রকাশ করলে সাইটের সম্মান নষ্ট হয় এবং পাঠক বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।
আপনি যদি চান আপনার ব্লগ গুগলের সার্চ রেজাল্টের একদম ওপরে থাকুক, তবে এই কয়েকটি বিষয় মেনে চলুন:
আসল অভিজ্ঞতা যোগ করুন: আর্টিকেলে নিজের মতামত, ব্যক্তিগত গল্প বা কোনো উদাহরণ ব্যবহার করুন।
সহজ ভাষায় কথা বলুন: কঠিন কঠিন ইংরেজি বা কঠিন বাংলা শব্দ বাদ দিয়ে একদম সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় লিখুন।
পাঠকের সমস্যার সমাধান দিন: পাঠক গুগলে যে প্রশ্নটি লিখে সার্চ করেছে, আপনার আর্টিকেলে যেন তার একদম নিখুঁত উত্তর থাকে।
প্রয়োজনে এআই-এর সাহায্য নিন, তবে পুরোপুরি নির্ভর হবেন না: আইডিয়া বের করা বা আউটলাইন তৈরির জন্য আপনি এআই ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু ফাইনাল লেখাটা অবশ্যই নিজের হাত দিয়ে সাজিয়ে লিখবেন।
কথালি থেকে সহজ কথায় বলতে গেলে, গুগল কোনো রোবোটিক বা যান্ত্রিক লেখা কখনোই পছন্দ করে না। আপনার লেখা Google এর পড়ে যদি মনে হয় যে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে সত্যি সত্যি সাহায্য করার জন্য লিখেছে, তবে সেই পোস্ট গুগলে র্যাংক করার জন্য কাজ শুরু করে দেই এমন কি সেই আর্টিকেল র্যাংক করবেই সেটা নিয়ে আমি নিচ্ছিত থাকতে পারেন।
তাই শর্টকাট খোঁজা বন্ধ করে আর্টিকেল সব সময় নিজের বুদ্ধিমত্তা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে লেখার চেষ্টা করুন। ব্লগিং জগতে টিকে থাকার জন্য হিউম্যান টাচ বা মানুষের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখার কোনো বিকল্প নেই!